গার্মেন্ট সংহতি’র কেন্দ্রীয় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

গত ৫ অক্টোবর, শুক্রবার ২০১৮ সকাল ১১টায় প্রেসক্লাবের সামনে “অবিলম্বে পোশাক শ্রমিকদের সকল গ্রেডের মজুরী একসাথে ঘোষণা এবং মোট মজুরী ১৬ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভা প্রধান তাসলিমা আখতারের সভা সমন্বয়ে বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি প্রবীন নেতা শাহ আতিউল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের অন্যতম নেতা ফিরোজ আহমেদ, বহুমুখী শ্রমজীবি সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভুইয়া, নারী সংহতরি সভাপতি শ্যামলী শীল। এছাড়া বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাস নাইন বাবু, সহ সম্পাদক অঞ্জন দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল শামাসহ, মুসা কলিমুল্লাহ, সেলিনা আক্তার, শাহ আলমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতা।

বক্তারা সমাবেশে বলেন, মালিকপক্ষের চাপে গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বরাতে শ্রমপ্রতিমন্ত্রী পোশাক শ্রমিকদের সর্বনিম্ন গ্রেডে মজুরী ঘোষণা করেছে ৮ হাজার টাকা। অথচ শ্রমিকরা গত ২ বছর থেকে দাবি করে আসছে ১৬ হাজার টাকা। সেই দাবিকে উপেক্ষা করে কেবল মাত্র ১টি গ্রেডের মজুরী যে পরিমাণ ঘোষণা করা হয়েছে তাতে শ্রমিকদের পক্ষে ঐ টাকায় জীবন যাপন করা সম্ভব না। বক্তারা বলেন, গত ৫ বছরে মূল্যস্ফীতি এবং বাজারদর বিবেচনা করলে ঘোষিত টাকায় শ্রমিকদের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি পায়নি। বেসিক প্রস্তাব করা হয়েছে ৪১০০ যেটি গতবারের তুলনায়ও । ৩০০০ টাকা বেসিক ছিলো মোট মজুরির ৫৬.৬০ %। আর ৪১০০ টাকায় হয় মোট মজুরির ৫১.২৫%। বেসিক কম পরিমান কম হওয়ায় শ্রমিকদের ওভারটাইমসহ অন্যান্য্য খাতেও আয় কমবে । বাসা ভাড়া ২০৫০ টাকা একটি হাস্যকর প্রস্তাব এই টাকায় শ্রমিক এলাকায় পরিবার নিয়ে কোন ঘর নিয়ে থাকা সম্ভব না। ন্যুনতম ৪ হাজার টাকা দরকার একটি বাস যোগ্য ঘরেও পরিবার নিয়ে থাকবার জন্য। বক্তারা বলেন গত ৫ বছরে বাজারে জিনিস পত্রের দাম লাফিয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ হাজার টাকায় শ্রমিকের পক্ষে ঐ একই জিনিসও এখন কেনা সম্ভব হবে না। ফলে ঘোষিত ৮ হাজার টাকায় একজন শ্রমিকের একই জিনিস বাজার থেকে কেনা অসম্ভব সুতরাং প্রকৃত আয় কমেছে। আর একারনেই শ্রমিকরা ৮ হাজার টাকার প্রস্তাবণা গ্রহণ করেনি। সরকার এবং মালিক পক্ষের পুর্ণবার বিবেচনা করা দরকার আর অতিদ্রুত সকল গ্রেডের মজুরী ঘোষণা করতে হবে বলেও তারা দাবি করেন। ৭ম গ্রেডে মাত্র ৫ শতাংশ হেল্পার কাজ করে। বাকী অপারেটরসহ অন্যান্য শ্রমিকদেও মজুরী প্রস্তাবনা না আনা শ্রমিকদেরকে ঠকানোর নতুন কৌশল।

বক্তারা আরো বলেন, রপ্তানী আয়ের শীর্ষ এই খাতে রপ্তানী আয় বেড়েছে গত ৫ বছওে প্রায় ২৫ শতাংশ অথচ শ্রমিক সংখ্যা আগের মতোই আছে। শ্রমিকদের যথাযথ মজুরী দিলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। ৮ হাজার টাকায় ক্যালোরীর চাহিদা পুরণও সম্ভবনা ।অথচ মালিকদের চাপে সরকার মালিকদের উৎস কর এবং কর্পোরেট করে বিশেষ ছাড় দিলেও শ্রমিকদের মজুরী তাদের কাংঙ্খিত ১৬ হাজারের দাবির ধারে কাছেও করেনি।

বক্তারা আরো বলেন, বক্তারা বলেন, ১৬ হাজার টাকার দাবিতো উপেক্ষা করা হয়েছে একইসাথে শ্রমিকরা যাতে এ বিষয়ে প্রতিবাদ বা মত শ্রমিক এলাকায় না করতে পারে তার জন্য ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পুলিশসহ সরকারী বিভিন্ন সংস্থা নানা রকম হুমকী প্রদান করে যাচ্ছে। যেটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও দারুনভাবে খর্ব করে।

নেতৃবৃন্দ মজুরী বোর্ডেকে উদ্দেশ্য করে আরো বলে, যে মজুরী ঘোষণা হয়েছে সেটিও কার্যকর হবে গিয়ে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে যেটি নির্বাচনকালীন সময়। শ্রমিকদের নির্বাচনী রাজনীতির বলি না করে উৎপাদনের স্বার্থে অতি দ্রুত শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী বিভিন্ন সংগঠনের আপত্তি পত্র বিবেচনায় আনার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ। এবং সরকার এবং মালিকপক্ষকে সকল গ্রেডের মজুরী অবিলম্বে একসাথে ঘোষণা ও কার্যকরের ঘোষণা জানান। এবং তারা ১৬ হাজার টাকার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য শ্রমিকদের আহবান জানান।