গণসংহতি আন্দোলন একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ২০০২ সাল থেকে কাজ করে আসলেও রাজনৈতিক দল  হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ২০১৬ সালের ৪ ‍ও ৫ নভেম্বরের সম্মেলনের ভেতর দিয়ে, যেখানে দলটির প্রথম নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়ে। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন সদস্যের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিম্নোক্ত ২৭ জন সদস্য রয়েছেন।

কমিটির রাজনৈতিক পরিষদ: দেওয়ান আবদুর রশিদ নিলু, তাসলিমা আখতার, ফিরোজ আহমেদ, আবুল হাসান রুবেল, হাসান মারুফ রুমি।

সম্পাদকমন্ডলী: বাচ্চু ভূইয়া, শ্যামলী সরকার, মনির উদ্দিন পাপ্পু, আবু বকর রিপন, জুলহাস নাইন বাবু, মুরাদ মোরশেদ ও আরিফুল ইসলাম।

কেন্দ্রীয় কমিটির অপরাপর সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন : আমজাদ হোসেন, দীপক রায়, তৌহিদুর রহমান, অপরাজিতা চন্দ, উশ্যেপ্রুমারমা, জান্নাতুল মরিয়ম ও তরিকুল সুজন।

জোনায়েদ সাকিকে প্রধান সমন্বয়কারী ও আবদুস সালামকে নির্বাহী সমন্বয়কারী করে ২৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে গণসংহতি আন্দোলন। প্রথমবারের মত কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করল তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিতে সক্রিয় এই সংগঠনটি। সাকি সংগঠনের শুরু থেকেই প্রধান সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষার রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্মেলন করে গণসংহতি আন্দোলন। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত শুক্রবার সম্মেলনের প্রথম পর্ব জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার সারা দিন গণসংহতি আন্দোলনের ঘোষণাপত্র, রাজনৈতিক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। ঘোষণাপত্রে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি প্রস্তাব করা হয়। ৪ টি পদ খালি রেখে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

গত ৩০ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে রাজনৈতিক দল আকারে আত্মপ্রকাশ করে গণসংহতি আন্দোলন। ওইদিন সকালে সদস্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি দল আকারে হাজির হয়েছে। এসময় কয়েকজন নেতাকর্মী সদস্য ফরম পূরণ করে গণসংহতিতে যোগ দেন।

জানা গেছে, গত বছরের ২৭, ২৮ ও ২৯ নভেম্বর তৃতীয় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে ‘গণসংহতি আন্দোলন’ রাজনৈতিক দল আকারে আত্মপ্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘জনগণ তাদের এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তার নিজস্ব শক্তি ঘনীভূত  দল গড়ে তুলে। গণসংহতি আন্দোলন তার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই দল হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে সংগ্রাম পরিচালনা করে যাচ্ছে। সে স্বপ্ন পূরণ করতে যে দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রয়োজন, তার প্রতিটি ধাপে জনগণের শক্তিকে সংগঠিত করে সংগ্রাম গড়ে তুলতে চাই আমরা।’

গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রাবন্ধিক-সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ বলেন,‘২০০২ সালের ২৯ আগস্ট গণসংহতি আন্দোলন বেশ কয়েকটি গণসংগঠনকে নিয়ে একটি জাতীয় রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসাবে যাত্রা শুরু করে। এই গণসংগঠনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতি, নারী সংহতি, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি, প্রতিবেশ আন্দোলন ও বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতি তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে লড়াই-সংগ্রামে নেতৃত্বমূলক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছুতে সুদৃঢ়ভাবে কাজ করব ।’