তাসলিমা আখতার

সদস্য, রাজনৈতিক পরিষদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি

জন্ম ০৬ মার্চ ১৯৭৪

১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন ১৯৯৮ সালে এবং কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন ২০০৩ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন, সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন, সামসুন্নাহার হলে ছাত্রী নির্যাতনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ জুলাই ছাত্র অভ্যূত্থানে নেতৃত্ব দেন তাসলিমা আখতার।

ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে বিদায় নেবার পর তিনি গার্মেন্ট শ্রমিকদের মাঝে কাজ করা শুরু করেন। বিশেষত ২০০৬ সালে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে কাজ করেছেন। পোশাক শ্রমিকদের বিশেষত নারী শ্রমিকদের ঘরে বাইরের সংগ্রাম, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লাড়াই করার সাহস তাকে অনুপ্রাণিত করে এখাতে কাজ করতে। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক।

২০০৭ সালে দেশে জরুরী অবস্থা জারি হলে রাজনৈতিক কর্মকা- সীমিত হয়ে পরে। এসময় তিনি পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটে ফটোগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হন। ফটোগ্রাফি বিষয়ে পড়ার সময় ফটো তোলার বিষয় হিসেবে তিনি বেছে নেন পোশাক শ্রমিকদের জীবন ও কাজ। ফলে একদিকে যেমন তিনি পোশাক শ্রমিকদের দাবি আদায়ের সংগ্রামে ব্যপ্ত ছিলেন একইসাথে পোশাক শ্রমিকদের জীবন ও বাস্তবতাকে সারা দুনিয়ার সামনে তুলে নিয়ে আসেন আলোকচিত্রের মাধ্যমে। 

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশানে আগুনে পুড়ে ১১১ শ্রমিক নিহত ও শতাধিক শ্রমিক আহত হওয়ার পর থেকে নিশ্চিন্তপুরে আহত ও নিহত শ্রমিকদের পাশে থেকে কাজ করেছেন। অনিরাপদ কর্মপরিবেশে অমানবিকভাবে শ্রমিকদের মৃত্যু উঠে এসেছে তাসলিমা আখতারের আলোকচিত্রে। 

ঠিক এর ৫ মাস পরে ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কর্মচারি নিয়ে ধসে পরলে তাসলিমা আখতার ছুটে চলে যান সেখানে। একদিকে ক্যাম্প করে উদ্ধার অভিযান চলতে থাকে একই সাথে ক্যামেরাও চলতে থাকে সমান তালে। ধ্বংস্তুপের ভেতরে ঢুকে চাপা পড়া জীবিত ও মৃত শ্রমিকদের উদ্ধার করা, পরিবারের কাছে হস্তান্তর, যারা লাশ খুঁজে পাননি তাদের তথ্য সংগ্রহ, তথ্য ভান্ডার তৈরি করে সেগুলোকে সংরক্ষণ করা, উদ্ধারকর্মীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ইত্যাদি কাজ যেমন দক্ষতার সাথে সমন্বয় করেছেন একইসাথে ধ্বংস্তুপের ভেতরের ছবিও তুলেছেন সমান দক্ষতা ও তৎপরতায়। 

উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পরে নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের তালিকা তৈরি, এবং এই তালিকার সত্যাসত্য যাচাই করার জন্য প্রতিটি ভূক্তভোগী সকল পরিবারের সাথে যোগযোগ ও যাচাই বাছাইয়ের দূরুহ কাজটিও তিনি করেছেন যোগ্যতার সাথে। 

তাসলিমা আখতার গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, এবং দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে সারা দেশে দলের কাজ বিস্তারে ভূমিকা পালন করছেন। একইসাথে এদেশের পোশাক শ্রমিকদের লড়াই সংগ্রামে অন্যতম নেতা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

রাজনীতির বাইরে তিনি একজন পেশাদার আলোকচিত্রী, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট ও সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন। আলোকচিত্রী হিসেবে তিনি ওয়ার্ল্ড প্রেস পুরষ্কারসহ দেশে বিদেশে অসংখ্য পুরষ্কার ও স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। সারা দুনিয়ার অসংখ্য শহরে তাঁর ছবি ও কাজ প্রদর্শিত হয়েছে।

এ ছাড়াও তিনি আমাদের পাঠশালা ও অশ্বদিয়া গার্লস স্কুলের ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য।